500 আদিবাসীর হাতে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের কার্ড তুলে দেওয়া হলো পুরাতন মালদায়
দি নিউজ লায়নঃ অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে এসে হাতে হাতে মিলল স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড। আর তৎক্ষণাৎ সেই স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে স্ত্রীর চিকিৎসার সুযোগ পেলেন পুরাতন মালদার যাত্রাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রঞ্জন লোহার। দুয়ারে সরকার কর্মসূচির মাধ্যমে এভাবেই মঙ্গলবার হাতে হাতে কয়েকশো আদিবাসীর দেওয়া হলো তপশিলি জাতি, উপজাতি শংসাপত্র , স্বাস্থ্যসাথী সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কার্ড। আর তাতেই ব্যাপক খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে পুরাতন মালদার ব্লকের যাত্রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের আদিবাসী অধ্যুষিত পোপড়া গ্রামে।
এদিন সকাল থেকেই পোপরা হাইস্কুল প্রাঙ্গণে শুরু হয় দুয়ারে সরকার কর্মসূচি। উপস্থিত ছিলেন পুরাতন মালদার বিডিও ইরফান হাবিব, সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৃণালিনী মন্ডল মাইতি , যাত্রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মহম্মদ নূরুল সহ পঞ্চায়েত প্রশাসনের অন্যান্য কর্তারা। এদিন সকাল থেকেই আদিবাসী এলাকায় পোপড়া গ্রামে দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে উপচে পড়ল মানুষের ভিড়। এমনকি পঞ্চায়েত এবং ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদিবাসী মানুষদের দুয়ারে সরকার কর্মসূচির ব্যাখ্যার জন্য একজন আদিবাসী ব্যক্তিকে রাখা হয়েছিল।
বিশ্বনাথ সোরেন নামে ওই ব্যক্তি এদিন পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের হয়ে আদিবাসী ভাষায় এই কর্মসূচির প্রতিটি প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা মানুষের কাছে তুলে ধরেন। অনেকেই বলেছেন, যে কাজ এতদিন তারা পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের দুয়ারে ঘুরেও করতে পারেন নি। সেই কাজ মুহূর্তের মধ্যে দুয়ারে সরকার কর্মসূচির মাধ্যমে হাতে হাতে ফল পেয়েছেন। এদিন স্বাস্থ্যসাথী, কৃষক বন্ধু সহ তপশিলি জাতি, উপজাতি এরকম একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষদের মধ্যে শংসাপত্র এবং কার্ড বিলি করা হয়।
পোপরা হাইস্কুল প্রাঙ্গণে এদিন সকাল থেকেই কয়েক হাজার মানুষ ভিড় করেন। এইসব সরকারি প্রকল্প পাবার জন্য রীতিমতো সাধারণ মানুষের লাইন পড়ে যায়। যদিও করোনা সংক্রমনের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং মাক্স , স্যানিটাইজার ব্যবহার করেই এই কর্মসূচিতে যোগদান করার কথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করে প্রচার করা হয়। যাত্রা ডাঙ্গাগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মহম্মদ নুরুল বলেন, প্রায় ৫০০ জন তপশিলি জাতি , উপজাতি শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। কুড়িটি সরকারি প্রকল্পের কয়েক হাজার মানুষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য কার্ড বিলি করা হয়েছে। এদিনের এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি সহযোগিতা সুযোগ পেয়ে মানুষ দুহাত তুলে তৃণমূল সরকারকেই আশীর্বাদ করেছেন। এই ধরনের কর্মসূচি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
পুরাতন মালদার বিডিও ইরফান হাবিব জানিয়েছেন, অনেক আদিবাসী মানুষ রয়েছেন যারা এই বিষয়টি হয়তো বুঝতে পারছিলেন না। তাদের কাছে সে ব্যাপারে তুলে ধরার জন্য আদিবাসী ভাষায় একজন বুঝিয়েছেন। তিনি সেই ভাষার মাধ্যমে সরকারি এসব প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। এছাড়াও এদিন দুয়ারে সরকার কর্মসূচির মাধ্যমে যেসব সরকারি প্রকল্প রয়েছে, তার সুযোগ সুবিধা সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষদের পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Post a Comment